Ad's

স্বামী স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে আলোচনা করা হলো

একজন ছেলে মেয়ের বিয়ের আগে সাধারণত বংশ, অর্থ, কর্ম, সৌন্দর্য সব ধরনের খবর নিয়ে থাকে দুই পরিবার। কিন্তু বিয়ের পর সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপ যে জরুরি তা সবাই ভুলে যান। স্বামী-স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আগে প্রথমে আমাদের ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে কিছু কথা জানা দরকার। প্রধানত রক্তের গ্রুপকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা হল ABO system (A, B, AB & O), আরেকটা হল Rh factor {Rh positive(+ve) & Rh negative(-ve)}। অর্থাৎ Rh factor ঠিক করবে ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে। তাহলে ব্লাড গ্রুপগুলো হলঃ A+ve, A-ve, B+ve, B-ve, AB+ve, AB-ve O+ve, O-ve. স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ মিল থাকা জরুরি নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে—বিশেষ করে সন্তান ধারণের সময়। মূলত Rh ফ্যাক্টর (Rh positive বা Rh negative)-এর মিলটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোন রক্তের গ্রুপে সমস্যা হতে পারে- যদি স্বামী Rh+ হন আর স্ত্রী Rh− হন, তাহলে সমস্যা হতে পারে। এতে পরবর্তী গর্ভধারণে শিশুর প্রতি মায়ের শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে আক্রমণ করতে পারে, যাকে বলা হয় Rh incompatibility। এই ঝুঁকি এড়াতে প্রথম গর্ভধারণের সময় বা পরে স্ত্রীকে Anti-D ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যৎ গর্ভধারণে সমস্যা রোধ করে। সবচেয়ে ভালো যদি দুজনেরই Rh ফ্যাক্টর একই হয় (উভয়েই Rh+ বা উভয়েই Rh−)। স্বামী-স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ কী রকম হওয়া দরকার? ১) স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ (+) হলে, স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপও অবশ্যই পজেটিভ (+) হতে হবে ২) স্বামীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ (-) হলে, স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ (+/-) যে কোনোটা হতে পারে ৩) স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ (-) হলে, স্বামীর ব্লাডগ্রুপও অবশ্যই নেগেটিভ (-) হতে হবে যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হয় আর স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে কী সমস্যা হবে? স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ এবং স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হলে – প্রথম সন্তান পজেটিভ হলেও সাধারণত সমস্যা হয় না। ডেলিভারির সময় ভ্রূণের রক্ত মায়ের শরীরে প্রবেশ করলে, মা Rh পজেটিভ রক্তের বিপরীতে Rh antibody তৈরি করে। পরবর্তীতে যদি দ্বিতীয় সন্তান আবার পজেটিভ হয়, তখন মায়ের antibody ভ্রূণের শরীরের RBC ভেঙে ফেলে, যেটা মারাত্মক হতে পারে। সমাধান: এই সমস্যা প্রতিরোধে, প্রথম সন্তানের ডেলিভারির পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মাকে Anti-D immunoglobulin ইনজেকশন দেওয়া হয়। এটা future pregnancies-এর জন্য মায়ের শরীরকে antibody তৈরি করতে বাধা দেয়।

No comments

Powered by Blogger.